Hunter S. Thompson

Football fans share a universal language that cuts across many cultures and many personality types. A serious football fan is never alone. We are legion, and football is often the only thing we have in common.

Robert Griffin III

Football is football and talent is talent. But the mindset of your team makes all the difference.

Snoop Dogg

It's so easy for a kid to join a gang, to do drugs... we should make it that easy to be involved in football and academics.

Brazilan Football Crazyness

Brazil eats, sleeps and drinks football. It lives football! Pele

Baby-g-swag

Anyony who thinks sunshine is happiness has never played football in the rain.

Sunday, October 15, 2017

এথলেটিক মাদ্রিদ বনাম বার্সেলোনা ম্যাচ রিভিউ by Monjurul Islam

ম্যাচ রিভিউ
বার্সেলোনা - অ্যাতলেটিকো
গোল:সাউল,সুয়ারেজ

লা লিগায় অষ্টম ম্যাচে এসে টানা জয়ের ছন্দপতন ঘটল। অষ্টম রাউন্ড শেষে ২২ পয়েন্ট নিয়ে অবশ্য শীর্ষেই আছে বার্সেলোনা। এটিএমের নতুন মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানো ষ্টেডিয়ামে এটিএমের বিপক্ষে - গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। ঘরের মাঠে এটিএম যে কোন দলের জন্য সব সময় কঠিন প্রতিপক্ষ এটা সবার জানা। লা লিগার সেরা ডিফেন্সিভ টিম তারা। তার উপর ওদের রাফ ফুটবল তো আছেই যেটা প্রতিপক্ষের স্বাভাবিক খেলা নষ্ট করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এটিএমের মাঠ থেকে ড্র করাটা খুব খারাপ রেজাল্ট বলা যাবে না। তবে জয় নিয়ে ফিরতে দারুন হতো। শিরোপার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া যেত। কেননা বড় দলগুলোর সাথে পয়েন্ট যত কম হারাবে ততই শিরোপা জিতার সম্ভাবনা বাড়বে। অবশ্য লিগ এখনো অনেকদুর বাকি। এখনো অনেক কিছুই হতে পারে। যারা সারা বছর ভাল খেলবে তারাই লিগ জিতবে। এটিএমের নতুন মাঠ যেখানে বার্সা আগে খেলেনি আর আজ তো এটিএমের দর্শকরাও একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল। বার্সার কেবল ৩০০ এর মত দর্শক ছিল। কাতালুনিয়ার স্বাধীনতার ইস্যুকে কেন্দ্র করে বার্সার দর্শকদের টিকেট দেয়নি। যারা কেবল অনেক আগে থেকে টিকেট কেটে রেখেছিল তারাই ছিল শুধু। এত বড় মাঠের গ্যালারিতে বার্সার এই গুটিকয়েক দর্শকদের খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটিএমের দর্শকরা সারাক্ষণ চিৎকার করে ষ্টেডিয়াম মাতিয়ে রেখেছিল। পিকে কে তো বার বার ভু ধ্বনি দিয়ে তাতিয়ে দিচ্ছিল এটিএমের দর্শকরা। তবে এসব কোন কিছুই শেষ পর্যন্ত বার্সার বাঁধা হতে পারে নি।

ম্যাচের আগেই কোচ ভালভার্দের একাদশ ফর্মেশন দেখে জাস্ট বিরক্ত হয়েছি। গোমেজ কে কেন যে প্রথম একাদশে সুযোগ দিলেন বুঝে আসে না। তার উপর যখন দেখলাম তাকে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলাবে তখন তো রীতিমত চোখ কপালে উঠেছে!! গোমেজকে মিডে খেলালেও এতটা খারাপ করতো না। ইদানিং ভালভার্দের এসব এক্সপেরিমেন্ট দেখতে আর ভাল লাগে না মোটেও। কেন প্রতি ম্যাচে নতুন নতুন এক্সপেরিমেন্ট করা লাগবে?? এতে প্লেয়ারের স্বাভাবিক খেলা নষ্ট হয়। যে যেখানে খেলতে অভ্যস্ত তাকে তো সেখানেই খেলানো উচিত।

ম্যাচের শুরু থেকে অ্যাতলেটিকো বার্সার উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে। এটিএমের কাউন্টার আক্রমনগুলো বার্সার ডিফেন্স কে বার বার পরীক্ষায় ফেলছিল। প্রথম ১৫ মিনিটে গ্রিজম্যানের অসাধারন দুটো শট ঠেকিয়ে বার্সাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে আমাদের জার্মান ওয়াল স্টেগান। বার্সার পায়ে বল থাকলেও আক্রমনে গিয়ে বার বার হতাশ হচ্ছিল। এটিএমের জমাট বাঁধা রক্ষনে আক্রমনগুলো নষ্ট হচ্ছিল। ম্যান টু ম্যান মার্কিং আর ডি বক্সের সামনে থেকে শট ব্লক করে বার্সার আক্রমনের ধার নষ্ট করছিল। ২১ মিনিটে কারাস্কোর পাস থেকে ডি বক্সের বাইরে থেকে অসাধারন এক গোল করে এটিএমকে লিড এনে দেয় সাউল। স্টেগানের কিছুই করার ছিল না যদিও ঝাপিয়ে সাধ্যমত চেষ্টা করেছে বল সেভ করতে। মুলত ম্যান মার্কিং ভুলের কারনেই গোলটা খায় বার্সা। আর আসলে একটা প্লেয়ার ডি বক্সের বাইরে থেকে দু তিনজনের ফাঁক থেকে এত চমৎকার শটে গোল করলে বিপক্ষ দলের সেটাতে কিছু করার থাকে না। গোল খেয়ে বার্সা গোল শোধে মরিয়া হয়ে উঠে। আক্রমনে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে। বাট খেলা ঠিক বার্সার মত মনে হচ্ছিল না। বার বার বার্সার পা থেকে বল কেড়ে নিচ্ছিল এটিএমের প্লেয়াররা। প্রচুর ভুল পাস হচ্ছিল সাথে এটিএমের রাফ ট্যাকেল খেলাটা বেশ কঠিন করে তুলেছিল। প্রথম হাফের বাকী সময়ে বার্সা কিছু আক্রমন করলেও গোলের দেখা পায় নি। এক্ষেত্রে এটিএমের ডিফেন্স লাইনকে বাহবা দিতেই হবে। ডি বক্সের সামনে বার্সার প্লেয়ারকে কোন স্পেস দিচ্ছিল না। মেসিকে অলটাম মার্কিএ রাখছিল। সাথে শট নিতে গেলেই ব্লক তৈরি করছিল। সব মিলিয়ে ওদের টিম ওর্য়াক আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। নিজেদের ডিফেন্স এতটা দারুন ভাবে সামাল দিয়ে আবার পাল্টা আক্রমনে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে নাজেহাল করাটা বোধহয় এটিএমের চেয়ে ভাল আর কেউ পারে না। এজন্যই মেবি তাদেরকে লা লিগার সেরা ডিফেন্সিভ টিম বলা হয়। আর এই কাজের ক্রেডিট ওদের কোচ সিমিওনের। সিমিওনে আসলেই একটা জিনিস। আহামরি কোন তারকা ছাড়াই দলটাকে এতটা গুছিয়ে খেলাতে পারেন বলা বাহুল্য।

দ্বিতীয় হাফের শুরু থেকে বার্সা আক্রমনে বেশ মনোযোগী হয়। গোল শোধে মিনিটে মিনিটে আক্রমনে নাজেহাল করতে শুরু করে এটিএমের ডিফেন্স লাইনকে। ৫৬ মিনিটে ডি বক্সের একটু বাইরে থেকে নেয়া মেসির অসাধারন ফ্রিকিক ডান পোস্টে লেগে ফিরে আসলে বার্সার হতাশা বাড়তে থাকে। আক্রমন করেই যাচ্ছিল বাট গোলের দেখা পাচ্ছিল না। মেসির অসাধারন আরেকটা নিচু শট বারের সামান্য কোল গেসে বাইরে চলে যায়। ৬১ মিনিটে ইনিয়েস্তার জায়গায় দেউলোফিউ সেমেদোর জায়গায় রবার্তোকে মাঠে নামান ভালভার্দে। মুলত এর পরেই বার্সার আক্রমনের গতি বাড়ে। আগের চাইতে এই সময় বার্সাকে বেশ শক্তিশালী মনে হয়েছে। খেলায় খুব গতি এসেছিল। আক্রমনের পর আক্রমনে এটিএমের ডিফেন্সকে সারাক্ষন ব্যস্ত রাখছিল। কিন্তু গোল কিছুতেই দেখা দিচ্ছিল না। বার বার এটিএমের ডিফেন্স কিপারের দৃঢতায় আর বার্সার ভুলে গোল মিস হচ্ছিল। ৭৯ মিনিটে রাকিটিচের বদলি হিসেবে মাঠে নামে পাওলিহো। অবশেষে ৮১ মিনিটে রবার্তোর ক্রসে অসাধারন হেডে গোল করে বার্সাকে সমতায় ফেরান সুয়ারেজ। মাটিতে ড্রপ দিয়ে দারুন বুদ্ধিদীপ্ত হেড করে এটিএমের কিপারকে পরাস্ত করেন। সেই সাথে অনেকদিন পর বার্সার হয়ে গোলে ফিরলেন আমাদের কিলার। এর একটু পর গোমেজের চমৎকার বাড়ানো বলে একটুর জন্য পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হয় সুয়ারেজ। পা লাগাতে পারলেই নিশ্চিত গোল হতো সেটা আর তখন  বার্সাও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত - গোলেই খেলা শেষ হয়। 

প্রথম হাফের চাইতে দ্বিতীয় হাফে বার্সা অনেক ভাল খেলে। বিশেষ করে লাস্ট ২০-২৫ মিনিট আক্রমনের জোয়ার তুলেছিল। এটিএমের ডিফেন্স কিপারের কিছু দারুন সেভে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে নি বার্সা। পুরো ম্যাচে বার্সার অনেকগুলো ভুল চোখে পড়েছে। অনেকবার পা থেকে বল হারিয়েছে,ভুল পাস করেছে,দু একটা ইজি গোলের চান্স মিস করেছে। পুরো ম্যাচে আমাদের স্টেগান অসাধারন ছিল। দু তিনটা অবিশ্বাস্য সেভে বার্সাকে ম্যাচে টাকিয়ে রেখেছিল। ডিফেন্সে উমতিতির পারফরমেন্স নজর কেড়েছে অন্যদের চেয়ে। বুসকেটস বরাবরের মত দারুন ছিল। সুয়ারেজ একটা ইজি গোল মিস করলে পুরো ম্যাচে দারুন খেলেছে। সবচেয়ে বড় কথা ওর গোলে ফেরাটা আমাদের জন্য দারুন স্বস্তিদায়ক।


এটিএমের মাঠে ৬১% বল পজিশন রাখাটা চাট্টিখানি কথা না। হয়তো প্রথম হাফে অনেক অগোছালো ছিল বার্সা বাট দ্বিতীয় হাফে দারুন ফুটবল খেলেছে। এটিএমের টাইট ফিট ডিফেন্স ভাগ্য সহায় না হওয়ার কারনে জয় পাওনা হয় নি। যদিও জয় আশা করেছিলাম তবু এটিএমের মাঠ থেকে ড্র করাটা খুব একটা খারাপ রেজাল্ট বলা যাবে না। জিতলে শীর্ষস্থানটা আরেকটু পাকাপোক্ত হতো বাট এখনো আমরা শীর্ষেই আছি। সো এত টেনশন আর হতাশ না হয়ে আপাতত সামনের ম্যাচের প্রস্ততি নেয়াটাই বেটার...



Friday, October 13, 2017

”George is Best" By: Saimon Rasel

Maradona is good,
Pele is better,
but George is best"
এই কথাগুলো নরদার্ন আয়ারল্যান্ড এর সকলের মুখেই শুনা যেত তাদের দেশের পোস্টার বয়কে নিয়ে। আপনি ভাবতে পারেন কি এমন প্লেয়ার ছিলেন তিনি,যে পেলে ম্যারাদোনা থেকেও মানুষ সেরা বলতো?
হ্যা জর্জ এর স্টেট দেখলে তাকে আপনার এই যুগের এভারেজ কোন প্লেয়ার মনে হবে, সেইজন্যে আপনার চোখ দিতে হবে জর্জের মনোমুগ্ধকর ফুটবল শৈলীতে।জর্জ ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ইতিহাসের সেরা তিন খেলোয়াড়দের একজন,৫৮ তে মিউনিখ ট্রাজিডির পর আস্তে আস্তে উন্নতি করা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলটি পূর্ণতা পায় বেস্টের খেলায়।
১৯৪৬ সালের ২২ মে, বেলফাস্টে জন্ম নেন এই ফুটবল কিংবদন্তি।রিচার্ড ও এন্নে বেস্টের পাচ সন্তানের মধ্যে জর্জ ছিল সবচেয়ে বড়। তার বাবা রিচার্রড ছিল খ্রিষ্টান সংঘ অরেঞ্জ অর্ডার এর সক্রিয় সদস্য। জর্জকে তাই এই সংগঠনের ব্যানার নিয়ে ঘুরতে হত তার অঞ্চলে। এইটা তাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।প্রাইমারি স্কুল থেকে উত্তীর্ণ হয়ে হাই স্কুলে পা দিল জর্জ,তখনি পড়াশুনোককে ছুটি দিয়ে মন দিলেন রাগবীতে। কিন্তু তুলনামূলক কম শক্তিশালী ও বেটে হওয়ায় রাগবী ছাড়তে বাধ্যই হন, এইবার মন দিলেন ফুটবলে।খেলাটা যেন তার জন্যেই তৈরী হয়েছিল, মাত্র ১৫ বছর বয়সেই চোখে পড়ে যান এক ম্যানচেস্টার স্কাউটে।বব বিশপ নামের সেই স্কাউট মেনেজারকে টেলিগ্রাফ করেন" I found a genius for you at last"
এ থেকেই বুঝা যায় কতটা মুগ্ধ হয়েছিলেন সেই স্কাউট।
ম্যানচেস্টার এ যান জর্জ এবং ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হয়ে যান,শুরু হয় ম্যানচেস্টার জার্নি। কিন্তুই ব্যক্তিজীবনে সবসময়ই সমালোচিত জর্জ,মাত্র ২ দিন পড়েই ইউনাইটেড ছেড়ে চলে
যান নিজের বাড়িতে,ঘরকাতুড়ে ছিলেন বেশ।
তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কারনে আইরিশরা ফুটবল খেলতে পারতো না, তাই জর্জ নিয়মিত ট্রেনিং করতে পারলো না । শিপইয়ার্ড এ বার্তাবাহক এর চাকুরী নেন এবং সপ্তাহে মাত্র ২ বার করতে পারতেন ট্রেনিং।১৯৬৩ সালে, ওয়েস্ট ব্রম এর বিপক্ষে ১৭ বছর বয়সে অভিষেক হয় জর্জের,অই ম্যাচের পর আবারো দলে অনিয়মিত হয়ে পরেন। দিতীয় বারের চান্সেই কোচকে খুশি করে ফেলেন,অই সিজনে ২৬ ম্যাচে সুযোগ পেয়ে গোল করেন ৬ টি।
লীগে হন ২য়, এফএ কাপের সেমিফাইনলিস্ট ও হন।সিনিয়র টিমের হয়ে না পারলেও,
ইয়ুথ টিমের হয়ে এফ্এ কাপ জয় করেন বেস্ট। ৫৮ এর মিউনিখ ট্রাজিডির পর প্রথম ট্রফি জয়।
পরের সিজনেই মূল একাদশে জায়গা করেন নেন বেস্ট এবং জয় করেন লীগ শিরোপা, ও কমিউনিটি শিল্ড।উত্থান হয় রেড ডেভিলদের।ইউরোপে প্রথমবারের মতন সকলের নজরে আসেন ৬৬ তে, বেনফিকার বিপক্ষে ২ গোল করে, পুরো ইউরোপিয়ান মিডিয়া বুধ হয় তার খেলায়।তার স্কিল ও গোলে প্রত্যেক পত্রিকার কভার পেজে নাম আসে "দি বেলফেস্ট বয়" নামে।
কিন্তু অই সিজনে আর জিতা হয়নি কোন শিরোপা, ইঞ্জুরিতে বেস্ট ছিটকে গেলে সিজনের সপ্ন ও শেষ হতে থাকে রেড ডেভিলদের।পরের সিজনেই ব্যাক করে ইউনাইটেড, ব্যাক করে বেস্ট, লীগ ও চ্যারিটি শিল্ড জয় করেন। ৪৫ ম্যাচে করেন ১০ গোল।
পরের সিজনেই প্রথমবারের মতন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বা চ্যাম্পিয়নস লীগ জয় করেন ম্যানচেস্টার।সিটির নিকট লীগ হারিয়ে কিছুটা হতাশ থাকলেই, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দেয় ইউনাইটেড।
সেমিতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বেস্টের ১ গোল ও এক এসিস্টে ৪-৩ এগ্রিগেটে জয় পায় ইউনাইটেড। চলে যায় প্রথম্বারের মতন ইউরোপিয়ান ফাইনালে,মুখোমুখি বেনফিকার।
ওয়েম্বলির ফাইনালে পৃথিবী দেখতে পায় বেস্ট ম্যাজিক, এক্সট্রা টাইমে খেলা গড়ালে বেস্টের এমাযিং রানে একাই লিড এনে দেন ইউনাইটেডকে।পরে ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ম্যানচেস্টার, পুরষ্কার হিসেবে জয় করেন ব্যালন্ডি ওর।সবচেয়ে কম বয়সে বিজয়ো হন ফুটবলার ওফ দি ওয়াল্ড এর খেতাব।
পরের সিজনেই পাশা ঘুরে যায়, ম্যানচেস্টার খুজে ফিরে নিজের ফর্মকে কিন্তু জর্জ থাকেন অবিচল, ম্যানচেস্টার কে একাই টেনে নিয়ে যান, ৫৫ ম্যাচে করেন ২২ গোল।ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে হার,ইউরোপিয়ান কাপের সেমিতে হার,লীগে ১১ তম হয় সেই সিজনে বেস্ট বাহিনী।কোচ বাবসির অবসরে ছন্নছড়া ইউনাইটেড, বাধ্য হয়েই ২ সিজন পর বাবসি আবারো কাধে নেন দায়িত্ব, কিন্তু তাতে উন্নতি কিছুটা করলেও ট্রফি জেতা হয়নি ইউনাইটেডের।
বেস্ট ফুটবল মাঠে যতটা কার্রযকর ছিলেন,মাঠের বাইরে ততটাই অকার্যকর।তার ব্যবহার ও চালচলন ছিল খুবই খারাপ। মিসকন্ডাক্ট এর জন্যে এফএ বারবার তাকে জরিমানা করেছিল,তাছাড়া ট্রেনিং এও সে নিয়মিত ছিল না, সুন্দরীদের সাথেই সময় কাটাতো ট্রেনিং ফাকি দিয়ে। কোচ, ক্লাব তাকে বারবার শাস্তি দিত,কিন্তু সে এগুলো মাথায় নিত না, কারন সে জানতো মাঠে তার কাজটা কি, এবং সে তার কাজটা ১০০ভাগ সঠিকভাবেই করতে পারতো।
১৯৭১-৭২ সিজনে ৫৪ ম্যাচে ২৭ গোল করলেও, কোচের উপর রাগ করে রিটায়ার করেন বেস্ট।পরের সিজনে আবারো দিতীয়বারের মতন বেস্ট রিটায়ার করেন কোচের পরিবর্তন হওয়ায়।আবারো ফিরে আসেন রিটায়ারমেন্ট থেকে,আরো ভয়ংকর হয়ে।
কিন্তু কোচের সাথে দ্বন্দ্ব তাকে এগুতে দেয়নি ৭৪ সালের ১ জানুয়ারি নিজের শেষ মেনচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে ম্যাচ খেলেন বেস্ট।পরের তিনদিন আর ট্রেনিং এ পাওয়া যায়নি তাকে,কোচ তাকে টিম থেকে বসিয়ে দেন।এর কিছুদিন পর ব্রিটিশ সুন্দরি মারজুরি ওয়ালেস এর পাস্পোর্রট,টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার জন বেস্ট, যদিও তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় কিছুদিন পরই,এবং বেস্ট নির্দোষ প্রমাণিত হয়।পরের দশ বছর ডজনখানেক বি গ্রেড সি গ্রেড ক্লাবে খেলেন বেস্ট। নিজেকে হারিয়ে খুজেন,কিন্তু নিজের বদ অভ্যাসগুলো থেকেই যায় তার শরীরে।তাই স্থায়ী হননি কোথাও।
ম্যানচেস্টার এর হয়ে ৪৭৪ ম্যাচে ১৮১ গোল করেন বেস্ট তাছাড়া পুরো ক্যারিয়ারে ৭০৯ ম্যাচে গোল করেন ২৫৩ টি। উইংগার হয়ে এত গোল করাটা, এবড়োখেবড়ো সেই মাঠে মোটেও সহজ ছিল না।
সম্মাননা-
Manchester United
FA Youth Cup: 1964
Football League First Division (2): 1964–65, 1966–67
Charity Shield (2): 1965, 1967
European Cup: 1968
Individual Edit
Football League First Division Top Scorer: 1967–68[129]
FWA Footballer of the Year: 1967–68
Ballon d'Or: 1968; Third place 1971
PFA Team of the Year Second Division: 1977
Football League 100 Legends: 1983
Honorary doctorate from Queen's University Belfast: 2001[130]
Freeman of Castlereagh: 2002[131]
Inaugural inductee into the English Football Hall of Fame: 2002
BBC Sports Personality of the Year Lifetime Achievement Award: 2002
UEFA Jubilee Awards – Northern Ireland's Golden Player: 2003
UEFA Golden Jubilee Poll: #19th[132]
FIFA 100
Golden Foot: 2005, as football legend
PFA Merit Award: 2006
PFA England League Team of the Century (1907 to 2007):
Team of the Century 1907–1976[133]
Overall Team of the Century[134]
FWA Tribute Award: 2007
European Hall of Fame (Player): 2008
FIFA Player of the Century:
FIFA internet vote: #20
FIFA Magazine and Grand Jury vote: #5
World Soccer The Greatest Players of the 20th century:
২০০৫ এ ৫৯ বছর বয়সে মারা যান বেস্ট।


ফ্রেংক পুস্কাস By: Saimon Rasel

১৯২৭ সালের ২ এপ্রিল হাংগেরীর বুদাপেস্টে জন্ম নেন ফ্রেংক।হাংগেরিতে জন্ম নিলেও, সে ছিল একজন জার্মান। জার্মানি সোয়াবিয়া থেকে তার পরিবার পুস্কাসের জন্মের পূর্বেই স্থানতরিত হয় হাংগেরীতে।১৯৪৩ সালে, কিসপেস্ট এসির হয়ে নিজের ইয়ুথ ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি, কিপপেস্ট এর তৎকালীন কোচ ছিলেন তারই বাবা। বাবার হাত ধরেই ফুটবলের হাতেখড়ি হয় গ্রেটেস্ট নাম্বার নাইন এর।
১৯৪৯ সালে কিসপেস্ট ক্লাবকে হাংগেরী তাদের সামরিক মন্ত্রণালয় এর ক্লাব বলে ঘোষণা দেয়,সাথে নাম চেঞ্জ করে বুদাপেস্ট হোননেড এ রূপ নেয়। ফলে সকল ফুটবলারকেই দেওয়া হয় আর্মি র‍্যাংক,ফলে পুস্কাস হয়ে উঠেন" দি গেলোপিং মেজর" পুস্কাস। বুদাপেস্ট এর ছয় বছরের ক্যারিয়ারে ৫ বারই লীগ জয় করেন পুস্কাস।এই ৫ সিজনের চার সিজনেই লীগের সরবোচ্চ গোলদাতার পুস্কাস।
তাছাড়া ১৯৪৮ সালে ৫০ গোল দিয়ে জিতে নেন ইউরোপিয়ান গোল্ডেন বুট।
১৯৫৬ সালে বুদাপেস্ট ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লীগে কোয়ালিফাই করে।প্রবল শক্তিশালি বুদাপেস্ট প্রথম রাউন্ডেই হোচট খায় এটলেটিকো বিলবাও এর নিকট।তখন হাংগেরীতে চলছিল বিপ্লব,দেশ ততখন টালমাটাল আর পুস্কাস খেলতেন সামরিক বাহিনীর ক্লাবে। তাই পুস্কাসসহ অনেক প্লেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেশত্যাগের।
ফিফা ও হাংগেরি ফুটবল এসোসিয়েশন তাই ক্ষিপ্ত হয়ে দুই বছরের জন্যে নিষিদ্ধ করেন তাদের।
এই সময়ে পুস্কাস খুঁজতে থাকেন নতুন ঠিকানা,কিছুদিন মাত্র খেলেন কাতালান ক্লাব এস্পানিওলে,ফিফা ব্যানের জন্যে তাও বাধাগ্রস্ত হয়।পুস্কাস ইতালিতে চলে যান কিন্তু কোন বড় ক্লাবই তার ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়নি কারন সে ছিল বেটে এবং মোটা, উপরন্তু ফিফা ব্যান তো আছেই।
শেষমেশ ৩১ বছরে জয়েন করেন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদে।
মাদ্রিদে স্টেফানো গেন্তোদের সামনে খেলে ভাংতে থাকেন সব রেকর্ড। রেকর্ডবুককে নিজের পায়ের ক্ষমতায় ধুলিস্মাত করেন বেটে মোটা ভদ্রলোক।রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জয় করেন সব শিরোপা।তিনটা চ্যাম্পিয়নস লীগ,৫ টা লীগ, স্পেনিশ কাপ,কোপা দেলরে সবই।৮ সিজনের ক্যারিয়ারে ৬ সিজনেই করেন ২০+ গোল, জিতেন চারটা পিচিচি এওয়ার্ড!!
লীগে ১৮০ ম্যাচ খেলে করেন ১৫৬ গোল!
নিজের প্রথন চ্যাম্পিয়নস লীগ ফাইনাল ম্যাচটা মিস করেন ইঞ্জুরির কারনে,তাতে কি দলের সবাই তাকে সাধ দেন প্রথমবারের মতন ইউরোপ রাজার মুকুট এর।
পরের সিজনে ঠিকই ফাইনাল খেলেন ফ্রাংফুর্ট এর বিপক্ষে।
সেমিফাইনালে বার্সেলোনাকে একাই গুড়িয়ে দেন নিজের হ্যাট্রিকে,ফাইনালে ফ্রাংফুটকে ভরেন গুনে গুনে এক হালি একাই!!৬২ তে বেনফিকার সাথে ফাইনাল হারলেও পুস্কাস অই ফাইনালেও করেন হ্যাট্রিক, ২ ফাইনালে ৭ গোল,এমন কীর্তি আজ অব্দি কেউ দেখায়নি এই জগৎ এ, এক পুস্কাস ব্যতীত। ৬৬ তে সেমিতে ফিওনার্ডকে দুই লেগে উপহার দেন হ্যাট্রিকের সাথে ৫ গোল সাথে মাদ্রিদ চলে যায় ফাইনালে। যদিও ৬৬ র সেই ফাইনালটিও খেলা হয় নি পুস্কাসের।কিন্তু এবারও মাদ্রিদ তার গলায় পড়ায় তৃতীয়বারের ন্যায় ইউরোপের মুকুট,
চ্যাম্পিয়নস লীগে ৩৯ ম্যাচে করেন মোট ৩৫ গোল।
রিয়াল মাদ্রিদ ক্যারিয়ারে ২৬২ ম্যাচে করেন ২৪২ গোল!
ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার:
জাতীয় দলের হয়ে পুস্কাস ছিলেন আরও দুর্দান্ত। মাইটি ম্যাগিয়ার্স টিমের মূল অস্ত্র ছিলেন পুস্কাস। হাংগেরি তথা ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল এই মাইটি ম্যাগার্স।১৯৫০-৫৬ এই ৬ বছরে ৫০ টি ম্যাচের ৪২ টি ম্যাচেই জয় লাভ করে দলটি,ড্র ৭ টি,হার ১ টি।কিন্তু হারটিই ছিল ১৯৫৪ এর ওয়াল্ডকাপ ফাইনাল ম্যাচ হার!!
পুস্কাস, ককসিস,ক্রিজবর এর এই দলটি ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে নিষ্ঠুরতম দল, এরা প্রতিপক্ষকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলতেন গোলের ফায়ারে, এরাই টোটাল ফুটবলের স্রষ্টা। আর এদের মূল অস্ত্র ছিলেন ফ্রাংক পুস্কাস।
৪৭ এ পুস্কাস জাতীয় দলের হয়ে জয় করেন বাল্কান ট্রফি, ৫২ তে অলিম্পিক গোল্ড মেডেল,৫৩ তে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন বা ইউরো।
অলিম্পিকে ৫ ম্যাচ খেলে করেন ৪ গোল। ফাইনালে ও সেমিতে তার একমাত্র গোলেই জয় পায় হাংগেরি।
১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড ওয়াল্ডকাপের হট ফেভারিট ছিল হাংগেরি, প্রতিপক্ষ ভাবতো কত কম ব্যবধানে তাদের বিপক্ষে হারা যায়।প্রথম ম্যাচেই কোরিয়াকে ৯-০ ব্যাবধানে পরাজিত করে মাইটি ম্যাগিয়ারস,দিতীয় ম্যাচে পশ্চিম জার্মানিকে হারায় ৮-৩ ব্যবধানে!! এই ২ ম্যাচে পুস্কাস গোল করেন ৩ টি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল না তার, ইঞ্জুরিতে ছিটকে যান তিনি।ফিরেন ফাইনালে,হাফফিট হয়েই মাঠে নামেন পুস্কাস!
প্রতিপক্ষ আবার পশ্চিম জার্মানি, যাদের কিনা গ্রুপ পর্বে গুনে গুনে ২ হালি ভরে ছিল পুস্কাস বাহিনী। ফাইনালে মাত্র ৬ মিনিটেই গোল করেন পুস্কাস,প্রথম হাফ শেষ হয় ২-২তে।
মাইটি ম্যাগার্সকে প্রথম ও শেষবারের মতন হারের সাধ ভোগ করতে হয় ম্যাচের ৮৪ মিনিটে!!ব্যর্থ হন পুস্কাস,প্রথম্বারের মতন ব্যর্থ টোটাল ফুটবল মাইটি ম্যাগার্স।শান্তনা হিসেবে পান টুর্নামেন্ট সেরা গোল্ডেন বল জিতেন পুস্কাস।
হাংগেরির হয়ে ৮৫ ম্যাচ খেলেন পুস্কাস, গোল করেন ৮৪ টি! যা কিনা আজও কেউ স্পর্শ করতে পারে নি। একমাত্র ক্রিস্টিয়ানোর সামনে সুযোগ আছে তাকে ধরার।
১৯৬২ তে স্পেনের নাগরিকত্ব পাওয়ার পর পুস্কাস ৪ টি ম্যাচ খেলেছিলেন লা রোজাদের হয়ে,যদিও গোলের দেখা পাননি।
সম্মাননা:
১৯৫৩ সালে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন ওয়াল্ড সকার প্লেয়ার এবং বেস্ট ইউরোপিয়ান প্লেয়ার হিসেবে।
*Iffhs তাকে সর্বকালের ১০ জন সেরা হিসেবে নিরবাচিত করেছেন।
*২০০৩ সালে ইউয়েফা বিংশ শতাব্দির বেস্ট ইউরোপিয়ান ফুটবলার হিসেবে নির্বাচিত করেন।
*ফ্রেঞ্চ দৈনিক এলইকুইপ তাকে বিংশ শতাব্দীর সেরা ফুটবলার নির্বাচিত করেছেন
*ফিফা তার সম্মানে বর্্ষসেরা গোলটির নামকরণ করেন
*২০০৬ সালে তাকে গোল্ডেন বুট দেওয়া হয়
ফুটবল ক্যারিয়ারে ৬২০ ম্যাচ খেলে পুস্কাস করেছেন ৬১৬ টি গোল!! রেশিও ১ এর কাছাকাছি!!সত্যি এই স্ট্যাট যেইদিন চোখে পড়েছিল চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছিল,কেন হবেই বা না! অনেক গ্রেট ফুটবলার আছেন যাদের ক্যারিয়ারের কোন এক অংশ নিয়ে আক্ষেপ থাকে,,বা হতাশা থাকে।কিন্তু পুসকাসের তা নেই তিনি যেখানে গিয়েছেন সেখানেই সমান ভাবেই সফল।করেছেন গোলের পর গোল!!স্পেন, হাংগেরি বা জাতীয় দল সব জায়গায় ছিলেন নিজের সেরা অবস্থায়।আক্ষেপ হয়তো তার একটা মাইটি ম্যাগারস এর হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ হেরেছেন তাও ওয়াল্ডকাপ ফাইনালে!
পুস্কাসকে নিয়ে একটি মজার ঘটনা শুনাই
"আমি, ববি চার্লটন, ডেনিস ল ও ফ্রেংক অস্ট্রেলিয়ায় ইয়াং প্লেয়ারদের কোচিং করাতাম।ইয়াংস্টাররা ফ্রেংককে নিয়ে মজা করতো ও প্রপ্রা সম্মান দেখাতো না,কারন সে ছিল মোটা ও বৃদ্ধ। একদিন আমি ইয়াংস্টারদের বললাম বলতো ফ্রেংক ১০ টা ক্রসবার শুট এর কয়টা ক্রসবারে লাগাতে পারবে? তারা প্রত্যেকেই বল্লো ৫ এর নিচে ৪,৩,২ বা ১ টি মাত্র। আমি সবাইকে বললাম সে ১০ টি বলই ক্রসবারে লাগাবে।প্রত্যেকেই তখন হাসছিল কিন্তু পুস্কাস প্রথম নয় টি শুট ক্রসবারে লাগায়, শেষ শুটটি সে ফ্লিক করে হিল দিয়ে মারল এবং ক্রসবারে লাগালো"- কথাগুলো ফুটবল কিংবদন্তি জর্জ বেস্টের।
এইজন্যেই বলে-ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট
২০০৬ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ শে নভেম্বর মারা যান সর্বকালের সেরা নাম্বার নাইন ফ্রেংক পুস্কাস।